ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ৫:১৮ পিএম

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি মহল এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের অপচেষ্টা রুখতে দেশের মানুষ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের জবাব দেওয়া হবে। দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, দেশের মিল-কারখানাগুলো জনগণের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকরা। একই সঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে শ্রমিকদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাই শিল্পকারখানা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের দাবি-দাওয়া বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিকরা আগের চেয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে নির্বাচিত সরকার দিনরাত কাজ করছে। বিএনপি বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে।
এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালীতে পথসভা শেষে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত