সর্বশেষ
প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, এক রাতেই আটক ২৯৯ গাজায় যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা দিয়ে আলোচনায়, এবার মার্কিন কংগ্রেসে আদম হামাওয়ি কানাডায় পিআর প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর, এলএমআইএ ছাড়াই মিলবে ১০০ সিআরএস পয়েন্ট ইরানে নতুন হামলার পথে ট্রাম্প, নাকি কংগ্রেসের চাপে থামবে যুদ্ধ? মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম-আরবদের চমক, কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন একাধিক প্রার্থী মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতার বার্তা নিয়ে নাসিরনগরে কমিউনিটি সভা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসতবাড়িতে মিলল ২৯ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ১ ২০২৭ সালে ঈদুল ফিতরে ৫, ঈদুল আজহায় ৬ ও পূজায় ২ দিনের ছুটি

গাজায় যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা দিয়ে আলোচনায়, এবার মার্কিন কংগ্রেসে আদম হামাওয়ি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:০৫ পিএম

গাজায় যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা দিয়ে আলোচনায়, এবার মার্কিন কংগ্রেসে আদম হামাওয়ি

মিশরীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কমব্যাট ট্রমা সার্জন আদম হামাওয়ি এবার জায়গা করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে। নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। নিউ জার্সির প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম মুসলিম ও প্রথম মিশরীয়-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন এই চিকিৎসক।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির বড় জয়ের ধারায় যুক্ত হয় হামাওয়ির বিজয়। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে গাজার মানুষের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দেন তিনি।

হামাওয়ি বলেন, ‘গাজা ও ফিলিস্তিনের পুরুষ, নারী ও শিশুদের বলছি, তোমাদের মুখের হাসি আমাকে একটি সুন্দর বিশ্ব গড়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাহস ও আশা জোগায়।’

এমএস নাউয়ের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে আগে রিপাবলিকানদের ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন ছিল। তবে জানুয়ারিতে আদম হামাওয়িসহ নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাটরা শপথ নিলে ২৫০টি আসন নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

নিউ জার্সির প্রিন্সটনে নির্বাচনী ফল পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠানে বিজয়ী ভাষণে হামাওয়ি সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনব।’

নিজের চিকিৎসক পরিচয় তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন সার্জন। আপনাদের বলতে পারি, আমরা এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যাচ্ছি। ওয়াশিংটনের এস্টাবলিশমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে যেসব আমেরিকানকে পেছনে ফেলে রেখেছে, তাদের প্রত্যেকের অধিকারের জন্য লড়ব।’

হামাওয়ির বিজয় উদযাপনেও দেখা গেছে ব্যতিক্রমী সংহতির চিত্র। কংগ্রেসওম্যান বনি ওয়াটসন কোলম্যান তাঁকে কোলাকুলি করে মঞ্চে নিয়ে যান। অন্যদিকে, ‘জিউস ফর হামাওয়ি’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’-এর সদস্যরাও তাঁর প্রতি সমর্থন জানান।

তবে নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়টা এতটা সহজ ছিল না। মুসলিমবিদ্বেষ ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে হামাওয়িকে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনে মুসলিমবিদ্বেষকে এতটা প্রকাশ্যে, উচ্চকিত ও গ্রহণযোগ্য হতে কখনো দেখেননি। তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এমনকি তাঁর দেশপ্রেম ও আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

হামাওয়ির বিজয়ের পেছনে তাঁর ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সমর্থকেরা। নির্বাচনী আয়োজনে কেফিয়াহ পরা এবং হাতে মার্কিন পতাকা নিয়ে অসংখ্য সমর্থক অংশ নেন।

নিউ জার্সির ভোটার ইয়োশি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, হামাওয়ির ফিলিস্তিনবিষয়ক স্পষ্ট অবস্থান তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে ‘বোমা নয়, স্বাস্থ্যসেবা’—এই স্লোগান তাঁর মন ছুঁয়ে যায়।

প্রচারণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা ইয়োশি হামাওয়ির জয়কে সাধারণ মানুষের তৃণমূল আন্দোলনের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সংগঠিত সাধারণ মানুষ সংগঠিত অর্থকেও পরাজিত করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গাজা এখনো অবরুদ্ধ, সেখানে এখনো বোমা হামলা চলছে। তাই যুদ্ধ ও গণহত্যার পেছনে করের অর্থ ব্যয় বন্ধ করতে হবে।

ফিলিস্তিনপন্থি ও প্রগতিশীল অবস্থানের কারণে প্রচারণাকালে প্রো-ইসরায়েলি ও চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীর তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন হামাওয়ি। তবে এসব সমালোচনায় দমে যাননি তিনি। প্রাইমারির আগে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রাজনৈতিক প্রচারণার চেয়ে জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। গালি বা আক্রমণ তাঁকে বিচলিত করবে না বলেও জানান তিনি।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে হামাওয়ির আদর্শের সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত মুসলিম ধর্মপ্রচারক ওমর আবদেল রহমানের মতাদর্শের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হয়। ‘ব্লাইন্ড শেখ’ নামে পরিচিত আবদেল রহমান ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তৎকালীন মিশরীয় প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারককে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ২০১৭ সালে কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়।

ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রায় ২০০ জন সাক্ষীর মধ্যে আদম হামাওয়িও ছিলেন। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি জানিয়েছিলেন, আবদেল রহমান আমেরিকাবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করলেও হত্যাকাণ্ড কীভাবে সংঘটিত করতে হবে, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেননি।

প্রচারণার নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে হামাওয়ির এই ঐতিহাসিক বিজয় সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নিউজার্সি এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ন্যান্সি সেডলাক মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এই ফলাফল গত কয়েক বছরের নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মার্কিন রাজনীতির প্রতি তাঁর বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে।

তিনি বলেন, গত ১০ বছর ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। হামাওয়ির বিজয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন আশা তৈরি করেছে। প্রকাশ্য শিক্ষার প্রতি তাঁর সমর্থন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকারের কারণেই তাঁকে ভোট দিয়েছেন বলে জানান ন্যান্সি।

একজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ সার্জন হিসেবে হামাওয়ির নির্বাচনী প্রচারণার মূল অঙ্গীকার ছিল অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও কর্মজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। ‘বোমা নয়, স্বাস্থ্যসেবা’ স্লোগান সামনে রেখে তিনি সবার জন্য সর্বজনীন চিকিৎসাসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), সাশ্রয়ী আবাসন ও শিক্ষা, অভিবাসী ও নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিবর্তে মানবাধিকারভিত্তিক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিশ্রুতি দেন।

মিশরীয় অভিবাসী মা-বাবার সন্তান আদম হামাওয়ির বেড়ে ওঠা নিউ জার্সিতে। দেশের সেবা ও নিজের শিক্ষার খরচ জোগাতে তিনি নিউ জার্সি আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন। চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার্থী থাকাকালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বসনিয়ায় প্রথম মানবিক চিকিৎসা মিশনে অংশ নেন।

২০০১ সালে নিউইয়র্কে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর গ্রাউন্ড জিরোতে উদ্ধারকাজে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। এর তিন বছর পর মার্কিন সেনাবাহিনীতে কমব্যাট ট্রমা সার্জন হিসেবে যোগ দেন।

২০০৪ সালে ইরাক যুদ্ধে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে গুরুতর আহত হওয়া ইলিনয়ের বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের জীবন বাঁচিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন হামাওয়ি।

গত ৩০ বছর ধরে সুদান, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, তুরস্ক ও জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ ও দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে আসছেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সেখানে সরাসরি উপস্থিত থেকে বিপর্যস্ত চিকিৎসাব্যবস্থার মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই চিকিৎসক।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com