সর্বশেষ
প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, এক রাতেই আটক ২৯৯ গাজায় যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা দিয়ে আলোচনায়, এবার মার্কিন কংগ্রেসে আদম হামাওয়ি কানাডায় পিআর প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর, এলএমআইএ ছাড়াই মিলবে ১০০ সিআরএস পয়েন্ট ইরানে নতুন হামলার পথে ট্রাম্প, নাকি কংগ্রেসের চাপে থামবে যুদ্ধ? মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম-আরবদের চমক, কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন একাধিক প্রার্থী মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতার বার্তা নিয়ে নাসিরনগরে কমিউনিটি সভা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসতবাড়িতে মিলল ২৯ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ১ ২০২৭ সালে ঈদুল ফিতরে ৫, ঈদুল আজহায় ৬ ও পূজায় ২ দিনের ছুটি

ইরানে নতুন হামলার পথে ট্রাম্প, নাকি কংগ্রেসের চাপে থামবে যুদ্ধ?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:৪৬ এএম

ইরানে নতুন হামলার পথে ট্রাম্প, নাকি কংগ্রেসের চাপে থামবে যুদ্ধ?

ইরানের বিলবোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় জয়ের পর ইরানকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করবেন, নাকি কংগ্রেসের রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে যুদ্ধের পরিকল্পনা থেকে সরে আসবেন—এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এই প্রশ্ন।

নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কায় ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার শঙ্কায় অঞ্চলটি থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম। আরব বিশ্বের নেতারাও সম্ভাব্য ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের আগে নতুন করে হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর দলটির ভেতরেই ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েলঘেঁষা নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। ভোটের পরদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেন, ইরান যুদ্ধ এবং এর জেরে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও স্পষ্টভাবে যুদ্ধকেই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুরু থেকেই ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি।

নির্বাচনের পরপরই জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। তেলের দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউটের নন-রেসিডেন্ট ফেলো ও আমেনা স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান নির্বাহী মেরিসা খুরমা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ উপদেষ্টা ও কংগ্রেসের চাপ বাড়াতে পারে। এই চাপ তাঁকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা থেকে বিরত রাখতে পারে।

তাঁর মতে, পরিস্থিতি নির্ভর করবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্যরা যুদ্ধের নীতিতে পরিবর্তন আনতে কতটা ঐক্যবদ্ধ হন এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাঁকে কী পরামর্শ দেন, তার ওপর।

তবে কংগ্রেসের বাধা ট্রাম্প কতটা মানবেন, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ভেটো ক্ষমতা নিয়ে বরাবরই গর্ব করে এসেছেন তিনি। যদিও দুই বছর শুধু ভেটো দিয়ে কাটাতে চান না বলে জানিয়েছেন, তবে বর্তমান মেয়াদই তাঁর শেষ হওয়ায় আইনপ্রণেতাদের চাপ উপেক্ষা করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার মূল ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ২০০১ ও ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ের পর থেকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের নতুন করে চূড়ান্ত অনুমোদন নেননি।

এদিকে, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ তৈরির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সিনেটে ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২৩৭টি আসন নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অবস্থান কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ নিয়ে তদন্ত এবং প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে পারে দলটি।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হবে যুদ্ধ বন্ধ করা। তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শেষ করতে যাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও যোগ দিয়েছেন।’ তাঁর দাবি, মার্কিন জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ চালিয়ে গেলে সংবিধান অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা ব্যবহার করে তা প্রতিহত করতে পারে কংগ্রেস।

রাজনৈতিক চাপ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমেনি। আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার গ্রুপ ও একটি উভচর আক্রমণকারী যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানি জাতি রণক্ষেত্র ও হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করেছে। এবার ওয়াশিংটনেও তাঁর রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছে।

তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেও সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘সেই যুদ্ধের জায়গায় দাঁড়িয়ে বলতে পারি, আমি যা করেছি তার থেকে আলাদা কিছুই করতাম না।’

অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখন ট্রাম্প ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা পেতে পারেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালান আইয়ারের মতে, নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আগামী জানুয়ারির আগে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব গ্রহণ করছে না। দায়িত্ব নেওয়ার পরও প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্ত কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি, কংগ্রেসের সম্ভাব্য বাধা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। একদিকে নতুন হামলার আশঙ্কা, অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসের চাপ। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কোন পথে হাঁটেন, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com