নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ৭:২৪ পিএম

শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা এবং অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ ও সচেতনতামূলক বার্তা শোনেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নাসিরনগর উপজেলার মছলন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা তথ্য অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবস্থাপনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের জিওবি খাতের আওতায় অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬-এর দ্বিতীয় প্রান্তিকের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত হন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মছলন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছায়েদুল হক, সহকারী শিক্ষক মোঃ এমদাদ হোসেন, সংহিতা গোস্বামী, হালিমা বেগম, সমীরণ রায় এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি শিল্পি সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন বলেন, সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিশুর জন্মের পর থেকেই সঠিক পুষ্টি ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা জরুরি। নবজাতককে জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ এবং ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের বয়স উপযোগী পরিপূরক খাবার দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পর্যাপ্ত সুষম খাবার গ্রহণ, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের যথাযথ যত্ন ও প্রাথমিক উদ্দীপনা নিশ্চিত করতে হবে। ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের নিয়মিত আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। অপুষ্টিতে ভোগা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মা ও পরিচর্যাকারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং মেয়েদের ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধান অতিথি। তিনি বলেন, শিশুর ছয় সপ্তাহ বয়স থেকে টিকাদান শুরু করে ইপিআইয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৬ মাসের মধ্যে সব ডোজ সম্পন্ন করতে হবে।
গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রথমবারসহ অন্তত চারবার প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা (এএনসি) গ্রহণ এবং দক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং বয়ঃসন্ধিকাল-পরবর্তী কিশোরীদের মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস।




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত