সর্বশেষ
দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডের পর শূন্যেও সবার ওপরে অভিষেক পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথে ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে যাওয়ায় ২৬ মিনিট বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল এশিয়ান গেমসে টানা তৃতীয় হার বাংলাদেশের নারী হকি দলের ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: শামা ওবায়েদ দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় অসুস্থ প্রায় ২ লাখ ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা তুরস্কে স্কুলের সামনে বন্দুক হামলা, আহত ১১ শিক্ষার্থী কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব শর্ত দিল ইরান রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথে ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:০৫ পিএম

পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথে ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া

ফাইল ছবি

পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া। এর ফলে দেশটির ভূখণ্ডে বিদেশি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের পথ সুগম হতে পারে। তবে এমন উদ্যোগকে ঘিরে রাশিয়া ইতোমধ্যে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে।

গত মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবটি উত্থাপিত হলে এর পক্ষে ভোট দেন ৯৯ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৩টি এবং পাঁচজন ভোটদানে বিরত থাকেন।

তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য আরও দুটি ভোটাভুটি প্রয়োজন। আগামী ৬ অক্টোবর এবং ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি এসব ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উভয় ভোটেই ১৪১ সদস্যের পার্লামেন্টে অন্তত ৯৪ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

প্রস্তাবটি পাস হলে সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে। ওই অনুচ্ছেদে লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ডে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিলটির সমর্থকদের দাবি, পুরোনো এই সাংবিধানিক বিধান বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, পরমাণু অস্ত্র গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লিথুয়ানিয়ার প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

তবে বিরোধীরা এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রস্তাবটি নিয়ে গণভোটের দাবি তুলেছেন। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদা অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

লিথুয়ানিয়ার এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা গত সপ্তাহে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনকে ‘পুরোপুরি দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

তার অভিযোগ, ন্যাটো সদস্যরা উসকানিমূলক নীতি অনুসরণ করছে এবং লিথুয়ানিয়াকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের সম্ভাব্য একটি এলাকায় পরিণত করছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও সতর্ক করে বলেছেন, লিথুয়ানিয়া যদি তাদের ভূখণ্ডে বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের অনুমতি দেয়, তাহলে দেশটি রাশিয়ার পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

তবে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।

ইউরোপে বাড়ছে পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা

ইউরোপজুড়ে নতুন পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই লিথুয়ানিয়ায় এই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত মার্চে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশটির পারমাণবিক নীতিতে কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে সাময়িকভাবে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে ফরাসি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনার কথাও ছিল।

এরপর ফিনল্যান্ড বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। একই উদ্যোগে যুক্ত হতে প্যারিসের সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে লাটভিয়াও।

বর্তমানে ন্যাটোর পারমাণবিক অংশীদারিত্ব ব্যবস্থার আওতায় বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। গত জুনে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল, ইউরোপের আরও কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয় বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

সূত্র: আরটি

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com