সর্বশেষ
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের সিলেটে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্পিডবোট-বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা ময়মনসিংহ মেডিক্যালে অগ্নিকাণ্ড: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি ৮৭ বছর পর রিভার প্লেটের রেকর্ড ভাঙল রোনালদোর আল নাসর এমির লাল গালিচায় সেলেনার রাজকীয় ঝলক, আড়ালে বিদায়ের সুর যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে দুঃখ প্রকাশ ফ্রান্সের, রাষ্ট্রদূত নিয়োগে মিলতে পারে ছাড় ২০২৬ সালে নতুন ইউটিউব চ্যানেল খুলে আয় করতে যা জানা জরুরি

বিএসএফ সম্মেলন ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা নাকচ করল বিজিবি

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ | ১০:৪৮ এএম

বিএসএফ সম্মেলন ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা নাকচ করল বিজিবি

ছবি : সংগৃহীত

অতিসম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে সদ্য সমাপ্ত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিবর্গ এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং এমন কিছু তথ্য, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য উপস্থাপন করছেন, যা অনুমাননির্ভর এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত বলে জানিয়েছে বিজিবি। তাই এ বিষয়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছে বাহিনীটি।

সোমবার (১৫ জুন) বর্ডার বাংলাদেশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রতিনিধিত্ব করেন।

মহাপরিচালক পর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩১টি এবং ভারতের পক্ষ থেকে ২১টি এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, উক্ত এজেন্ডাসমূহের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের প্রামাণিক/অথেন্টিক দলিল হলো ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (JRD)’, যা বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালকদ্বয় কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করে। বিশেষ করে সীমান্তে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি)-এ যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও লিপিবদ্ধ হয়েছে।

এ ছাড়াও পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, মাদক চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমসহ বাংলাদেশের সকল উদ্বেগগুলো শুধু আলোচিতই হয়নি, আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনে নথিবদ্ধও হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক দলিল পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এতে বিজিবির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সকল উদ্বেগ ও অবস্থান সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে, স্পষ্টভাবে এবং কোনো ধরনের আপস বা নমনীয়তা ব্যতীত যথাযথভাবে প্রতিফলিত ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১২ জুন ২০২৬ তারিখে বিজিবি কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি উক্ত জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনসের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।

বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু ব্যক্তি এবং দু-একটি সংবাদমাধ্যম ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে “গোপন বৈঠক” হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনেই আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রচলন ও অনুসৃত প্রথা।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে ডিজি বিএসএফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের সাক্ষাৎ করেছিলেন। এবারও মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজিবির অন্য শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা ভারতে গমনের পূর্বেই পূর্বনির্ধারিত এবং অনুমোদিত ছিল। সেখানে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও অবস্থান দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করা হয়।

আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি বলে উল্লেখ করে বিজিবি বলেছে, এটিকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করা বাস্তবতা বিবর্জিত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, কাঁটাতার স্থাপন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিহত করা, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীলতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি মহাপরিচালকের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বিজিবি যখন জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে, তখন বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রচার এবং বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে হেয় করার প্রচেষ্টা বাহিনীর মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিজিবি মনে করে। মতামত ও বিশ্লেষণের সুযোগ থাকলেও তা যাচাইকৃত তথ্য, প্রামাণিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

বিজিবি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com