সর্বশেষ
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের সিলেটে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্পিডবোট-বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা ময়মনসিংহ মেডিক্যালে অগ্নিকাণ্ড: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি ৮৭ বছর পর রিভার প্লেটের রেকর্ড ভাঙল রোনালদোর আল নাসর এমির লাল গালিচায় সেলেনার রাজকীয় ঝলক, আড়ালে বিদায়ের সুর যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে দুঃখ প্রকাশ ফ্রান্সের, রাষ্ট্রদূত নিয়োগে মিলতে পারে ছাড় ২০২৬ সালে নতুন ইউটিউব চ্যানেল খুলে আয় করতে যা জানা জরুরি

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৭ পিএম

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

সংগৃহীত ছবি

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইনক।

সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইনক বলেন, মহাকাশে বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঠিক কবে সেটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এর আগে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সংঘাতের সময় রাশিয়া ও চীন মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে কিংবা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে। ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথ থেকে আসা বিভিন্ন হামলা প্রতিহত করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা ও শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইন্টারসেপ্টর মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ বড় শক্তিগুলো মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে আসছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটে হামলা বা যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত করার সক্ষমতাও রয়েছে।

সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও দিকনির্ণয়ের জন্য স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে সামরিক শক্তিধর দেশগুলো।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ গঠন করে। মহাকাশে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ, বিশেষ করে যোগাযোগ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত শত শত স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখা বাহিনীটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

গত বছর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্পেস ফোর্সের ভূমিকা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এতে মার্কিন মহাকাশ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেন, মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অর্থ হলো প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে তা ব্যাহত, দুর্বল বা ধ্বংস করার ব্যবস্থা নেওয়া। যুদ্ধের সময় এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

এদিকে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি রুশ স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত ১২টি স্যাটেলাইটের যোগাযোগব্যবস্থায় নজরদারি চালিয়ে থাকতে পারে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হতে পারে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, চীনও সামরিক শক্তি আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। রাশিয়াও ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে মহাকাশকে বিবেচনা করছে। ফলে পৃথিবীর কক্ষপথে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com