ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫:২৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক যুবক। তবে মরদেহ নিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় বস্তা থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ায় নাকা চেকিংয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে বস্তা খুলে ১৯ বছর বয়সী তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাকা চেকিংয়ের সময় মোটরসাইকেলে একটি বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই যুবক। বস্তাটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় বস্তা থেকে রক্ত চুইয়ে পড়তে দেখা যায়। পরে বস্তা খুলে তরুণীর মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তরুণীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বস্তায় ভরে অযোধ্যা পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ওই যুবক। রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
নিহত তরুণীর বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। অভিযুক্তের বাড়িও একই এলাকায়। নার্সিং পড়াশোনার জন্য তরুণী পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন। অভিযুক্তও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শহরের একটি মেসে থাকতেন।
নিহতের পরিচিতদের দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একই কোচিংয়ে পড়াশোনাও করতেন। সম্প্রতি তরুণীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ তৈরি হয় ওই যুবকের মধ্যে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বচসা হতো বলে অভিযোগ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই বিরোধের জেরেই তরুণীকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়েন অভিযুক্ত।
এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য মেস থেকে বেরিয়েছিলেন তরুণী। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললেও সেদিন ফোন না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ফোন করেন। কিন্তু মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে মেসের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবার। থানায় নিখোঁজের ডায়েরিও করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর গভীর রাতে ওই যুবককে আটক করে পুলিশ এবং তাঁর কাছ থেকে বস্তাবন্দি তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে পুরুলিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সূত্র: আনন্দবাজার





© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত