নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:০৬ এএম

দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে শান্ত তিতাস নদী। শরতের পড়ন্ত বিকেলে বর্ণিল নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে নামে দর্শনার্থীদের ঢল। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে তিতাসপাড় পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও আয়োজন হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা দেখতে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরের আগেই তিতাসের দুই তীরে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। প্রতিযোগিতা শুরু হলে শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা পর্যন্ত নদীর দুই পাড় লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
এবারের প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়। তিতাসের বুকে বাহারি রঙের নৌকা ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে মাঝিদের বৈঠার গর্জনে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। দুই তীরে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা করতালি ও উল্লাসে প্রিয় দলকে উৎসাহ দেন।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য **খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই নৌকা বাইচের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সাংস্কৃতিক রাজধানী।
তিনি বলেন, নৌকা বাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যেরই অংশ। মানুষ চায় প্রতিবছর এ আয়োজন হোক। আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে নৌকা বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অনেকে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত