ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৩:৫০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার এসব স্থাপনাকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বা মাদক কারখানা বলে মন্তব্য করে নতুন করে বিস্ময় তৈরি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে ওকলাহোমায় এক সমাবেশে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে হঠাৎ ফোরদো স্থাপনাকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। পরে নিজের বক্তব্য সংশোধন না করে আরও কয়েকবার ‘মাদক ও পারমাণবিক কারখানা’ বলে একই দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের সহপরিচালক জেমস অ্যাক্টন সিএনএনকে দেওয়া এক ই-মেইলে বলেন, ‘এটা আমার জন্যও নতুন।’
তার ভাষ্য, ফোরদো স্থাপনা কখনও মাদক উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই। এমনকি সেখানে মাদক উৎপাদন করা হতো—এমন কোনো অভিযোগও তিনি আগে শোনেননি।
কী বলেছিলেন ট্রাম্প?
গত বছরের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে পরিচালিত অভিযানে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ছিল ফোরদোও।
ওকলাহোমার সমাবেশে ওই হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, গভীর রাতে চাঁদের আলো না থাকার সময় মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
ফোরদো স্থাপনার বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে বোমা প্রবেশ করানোর প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি হঠাৎ সেটিকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বলে উল্লেখ করেন।
এরপর বক্তব্য সংশোধন না করে তিনি বলেন, এসব স্থাপনায় ‘পারমাণবিক ও মাদক’—দুই ধরনের কার্যক্রমই চলছিল। তবে কী ধরনের মাদক উৎপাদন করা হতো বা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি না, তা জানাননি ট্রাম্প।
কেন ‘মাদক কারখানা’ বললেন ট্রাম্প?
ট্রাম্পের মন্তব্যের কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সিএনএনের বিশ্লেষণে একটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
ইরান প্রসঙ্গে কথা বলার ঠিক আগে ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবৈধ মাদক পাচার ঠেকাতে তার প্রশাসনের উদ্যোগ এবং ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
এরপরই তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গে যান। ফলে আগের প্রসঙ্গে বারবার ব্যবহৃত ‘ড্রাগ’ শব্দটি ভুলক্রমে পরের বক্তব্যে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এটি নিছক কথার ভুল ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।
রেডিওফার্মাসিউটিক্যালের সঙ্গে কি কোনো সম্পর্ক আছে?
ট্রাম্পের বক্তব্যের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ জেমস অ্যাক্টন আরেকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন।
ইরান অতীতে পারমাণবিক চুল্লিতে ‘রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল’ বা তেজস্ক্রিয় ওষুধ তৈরির সক্ষমতার কথা বলেছে। এসব পদার্থ বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
তবে ফোরদোর ক্ষেত্রে এ ব্যাখ্যাও প্রযোজ্য নয় বলে মনে করেন অ্যাক্টন। কারণ ফোরদো মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র; সেখানে কোনো পারমাণবিক চুল্লি নেই।
হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা কী?
ট্রাম্পের মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ট্রাম্পের নিজের মন্তব্যের দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মাদক উৎপাদনের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ট্রাম্পের কাছে রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞ অ্যাক্টনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফোরদোতে মাদক উৎপাদনের কোনো বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা তার জানা নেই। আর ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক আগেই অবৈধ মাদক পাচার নিয়ে আলোচনা হওয়ায়, ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ শব্দটি সেখান থেকে ভুলক্রমে চলে আসার সম্ভাবনাকে একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ট্রাম্প বা তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
সূত্র: সিএনএন



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত