সর্বশেষ
ফুটপাত দখল করলে ফের উচ্ছেদ, ছাড় নয়: ডিএনসিসি প্রশাসক হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প তেলপথ খুঁজছে ইরাক, তুরস্কের সঙ্গে বড় চুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি: প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষের প্রস্তুতি, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২ চীনের রপ্তানি স্থগিত, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা বাড়ানোর খবরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ময়মনসিংহে বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭ মধ্যরাতে মদ্যপ পরিচালকের অদ্ভুত আবদার, তিক্ত অভিজ্ঞতা জানালেন স্বরা ভাস্কর গুলশানে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ মদের গুদাম সিলগালা হুতিদের ৪ ড্রোন ও ২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৪৯ পিএম

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) পঞ্চমবারের মতো এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। এর অগ্রাধিকার হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি। একই সঙ্গে দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি।’ উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ সব খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা পাবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা হবে। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্ব থাকবে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।

তিনি জানান, প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।’

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদেরও সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে বলেও জানান তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।’

বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com