ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৭ এএম

নারীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘নারী স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সহনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সভায় এ উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
মাতৃস্বাস্থ্য ও ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্ব
‘উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা এবং জরুরি প্রসূতিসেবা উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জেলা হাসপাতাল, রোগী স্থানান্তর ও রেফারেল ব্যবস্থা এবং নিবিড় পরিচর্যাসেবা শক্তিশালী করা হবে। ভবিষ্যতে মহামারি ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতেও এ উদ্যোগ সহায়তা করবে।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সঙ্গে অংশীদারত্ব এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এ বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা বলেন, নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ পরিবার ও সমাজের সক্ষমতা বাড়ায় এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার জিডিপির ১ শতাংশ থেকে পর্যায়ক্রমে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছে। পাশাপাশি ১ লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাঁদের ৮০ শতাংশ নারী। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি গ্রহণে ইউএনএফপিএ ও সংস্থাটির উদ্ভাবনী কর্মসূচি ‘উইমেনএক্স কালেকটিভ’ সহায়তা করেছে। বাস্তবায়ন পর্যায়েও ইউএনএফপিএ কারিগরি সহায়তা দেবে। এ সহায়তার জন্য সংস্থাটি অন্তত ২৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সংগ্রহ করছে। জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) এবং বেসরকারি খাতের অংশীদাররাও এতে সহায়তা দিচ্ছে।
ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ইউরোপীয় ইউনিয়নের মালিকানাধীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক। অন্যদিকে, ইউএনএফপিএ জাতিসংঘের প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সুরক্ষায় কাজ করছে সংস্থাটি। ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউএনএফপিএর অংশীদারত্ব রয়েছে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত