ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:১১ এএম

জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। নৌকাটিতে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
রোববার এক বিবৃতিতে আইওএম জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে জিবুতির পূর্ব উপকূলে গুহেরে এলাকার কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তাঁদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জিবুতির কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়েসাক জানান, সংস্থাটির কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা দিচ্ছেন। এ ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নিহতের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, তা জিবুতির কর্তৃপক্ষের দাফন করা ব্যক্তিদের হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারিত। অভিবাসীদের কেউ কেউ নিজেরাই মরদেহ দাফন করেছেন। কর্তৃপক্ষ পরিচয় ও সংখ্যা যাচাই করার পর এসব মৃত্যুর তথ্যও সরকারি হিসাবে যুক্ত হতে পারে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগ ও নিরাপদ জীবনের আশায় আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের বহু মানুষ জিবুতি থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ পথে তাঁদের পাড়ি দিতে হয় বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যার সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে জিবুতি ও ইয়েমেনের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
তবে এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও অভিবাসীদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
আইওএম জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের আগমন নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছর এই পথ ধরে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে অথবা তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন।
জিবুতির উপকূলে সর্বশেষ এ নৌকাডুবির ঘটনা আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের প্রাণহানির ভয়াবহ ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: আলজাজিরা



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত