সফিউর রহমান সফিক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০৬ এএম

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল এ – ২ শাখার বিতর্কিত কানুনগো আতাউল হকের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিশেষ মহলের তদ্বিরে কাঙ্ক্ষিত বদলি বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে , বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে । গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এক বিশেষ মহলের অনৈতিক মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে তিনি ‘টাকার খনি’ হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডি রাজস্ব সার্কেলের (সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস) এর কানুনগো হিসেবে বদলির আদেশ লাভ করেন।
অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কানুনগো আতাউল হক বিদায়ী ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ঢাকা এল এ (ভূমি অধিগ্রহণ) শাখা এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিসে চাকুরি করার সুবাদে তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছেন। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ইতিমধ্যে পাহাড় সমান সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বেনামে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
অনুসন্ধানে বিশ্বস্ত সূত্র জানা গেছে মোহাম্মদ আতাউল হকের আয়ের উৎসের সাথে তার জীবনযাত্রার মান ও সম্পদের কোনো মিল নেই। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে, যার বৈধ কোনো উৎস নেই।
গুলশান ভূমি অফিসেও ছিল দুর্নীতির রাজত্ব
এর আগে গুলশান সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে কানুনগো হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নামজারি (মিউটেশন) “ক ও খ ” তালিকাভুক্ত অধিগ্রহণকৃত জমি সহ বিভিন্ন ভূমি সেবাকে কেন্দ্র করে ঘুষ ও দুর্নীতির মহোৎসব গড়ে তোলেন আতাউল হক। সে সময় তার বিরুদ্ধে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নামজারির নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি ও গণ-অসন্তোষের মুখে একপর্যায়ে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের এল এ শাখায় পদায়ন করা হয়েছিল। গুলশান সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে দুই বছরের উপরে চাকুরি করেন এই কানুনগো ।
তদ্বির বাণিজ্যে ধানমন্ডিতে পদায়ন
গুলশান সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস থেকে কিছুদিন কয়েক মাস আগে ঢাকা এল এ শাখায় বদলি করা হয় আতাউল হককে। ঢাকা এল এ শাখায় যোগদান করার পর কিছুদিন ঘাপটি মেরে থাকার পর আবারও মহানগরের লাভজনক সার্কেলে বসার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন আতাউল হক। অবশেষে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ২৫ লাখ টাকার বিশাল অঙ্কের তদ্বির বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি ধানমন্ডি সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে কানুনগো হিসেবে বদলি হতে সক্ষম হন। অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে । এই বদলির আদেশ জারির পর ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও ভূমি সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কীভাবে বিএনপি সরকারের সংস্কার নীতির চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সার্কেলে পদায়ন পান, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন বিভিন্ন মহল অবিলম্বে আতাউল হকের এই অনৈতিক বদলির আদেশ বাতিল করে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উচ্চতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কানুনগো আতাউল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে ওঠাও অভিযোগ সঠিক নয়। বিভিন্ন মহলে একটি কথা উঠেছে ২৫ লাখ টাকা বিনিময় বিশেষ মহলের তদবিরে ধানমন্ডি সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে বদলির আদেশ এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ বলে ফোন রেখে দেন ।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত