ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:১৯ এএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে অজ্ঞাত প্রক্ষেপণের আঘাতে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর বিমানবন্দরের চার নম্বর যাত্রী টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। একই সময়ে টার্মিনালে আঘাত হানা অজ্ঞাত প্রক্ষেপণের কারণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক ছিলেন। পরে আহত অবস্থায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবরও জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস।
হামলার দায় স্বীকার হুতিদের
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনা ও দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া দেশটির অন্য সব বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে তারা।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন এবং সানার বিমানবন্দরে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ২০২২ সালে হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত