সর্বশেষ
ফাইনাল স্পেনে না হলে বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানে বাস-ডাম্পার সংঘর্ষে নিহত ৮, আহত ৩০ নির্বাচনে ভরাডুবির পর আদালতের ধাক্কা, ট্রাম্পের ‘মেগা তোরণ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, রাজপথে প্রায় ৬ লাখ মানুষ ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় আখাউড়ায় নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত শিল্পকারখানা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী মাধবপুরে ভাঙনের মুখে প্রধান সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার এলাকাবাসীর প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, এক রাতেই আটক ২৯৯

নির্বাচনে ভরাডুবির পর আদালতের ধাক্কা, ট্রাম্পের ‘মেগা তোরণ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ৫:০২ পিএম

নির্বাচনে ভরাডুবির পর আদালতের ধাক্কা, ট্রাম্পের ‘মেগা তোরণ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ হারানোর পর এবার আদালতের বাধার মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫০ ফুট উঁচু বিশাল তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা। ওয়াশিংটনে প্রস্তাবিত এই স্থাপনার নির্মাণকাজে ১৫ দিনের জন্য সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক তানিয়া চুটকান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দীর্ঘ জনশুনানি ও নাগরিকদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন (এনসিপিসি) প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। তবে অনুমোদনের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে আদালত নির্মাণকাজ স্থগিতের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তাবিত নির্মাণস্থল ও এর আশপাশে কোনো ধরনের নির্মাণ-সম্পর্কিত কার্যক্রম শুরু বা পরিচালনা করতে পারবে না। বিচারক তাঁর আদেশের ব্যাখ্যায় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি ও তীব্র যানজট সৃষ্টির ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ভার্চুয়াল বৈঠকে ৮-৪ ভোটে তোরণ নির্মাণের অনুমোদন দেয় এনসিপিসি। ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও নকশা পরিবর্তনের তদারককারী প্রধান দুটি ফেডারেল সংস্থার একটি এই কমিশন।

এর আগে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা জনশুনানিতে ১২০ জনের বেশি নাগরিক প্রকল্পটির বিরোধিতা করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিলেন সাবেক সেনাসদস্য। তবে আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ট্রাম্পের সমর্থক ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত কমিশন দ্রুত অনুমোদন দেয়।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম তোরণ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার মতো এই স্থাপনার নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

ঐতিহাসিক স্থাপনার দৃশ্যপট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা

প্রকল্পটি শুরু থেকেই আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে রয়েছে। যুদ্ধাহত সাবেক সেনাসদস্য এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণবাদীরা এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তাদের অভিযোগ, তোরণটির বিশাল আকৃতি ও অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্য ও দৃশ্যপট নষ্ট করবে। বিশেষ করে লিঙ্কন মেমোরিয়াল, আর্লিংটন হাউস এবং রবার্ট ই লি মেমোরিয়ালের মধ্যবর্তী দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের গম্ভীর পরিবেশও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিরোধীদের অন্যতম প্রধান আইনি যুক্তি হলো, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনে নতুন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘কমেমোরেটিভ ওয়ার্কস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমতি বাধ্যতামূলক।

বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত নির্মাণস্থলের আশপাশে বিক্ষোভ করেন বিরোধীরা। এতে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বায়ার বলেন, একজন ব্যক্তির অহংবোধ থেকে তৈরি এই বিশাল স্থাপনা সেখানে শায়িত প্রতিটি বীর সেনাসদস্যের প্রতি চরম অবমাননা।

তোরণ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

গত অক্টোবরে ওভাল অফিসে তোরণের বিভিন্ন আকারের মডেল প্রদর্শন করেন ট্রাম্প। এ সময় এক সাংবাদিক তোরণটি কার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে জানতে চাইলে নিজের দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য।’

তবে পরে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী, আমেরিকানদের চেতনা, সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার স্মারক হিসেবেই এটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি তিনি আরও দাবি করেন, পটোম্যাক নদীর কাছে ব্যস্ত ট্রাফিক সার্কেলে নির্মিতব্য তোরণটি পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ড্রোন ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের সামরিক কমপ্লেক্স হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। যদিও এনসিপিসির কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত নথিতে কোনো সামরিক স্থাপনার উল্লেখ ছিল না।

৪২টি ঐতিহাসিক স্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে দিনে দুটি ১০ ঘণ্টার শিফটে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বৃহস্পতিবার আদালতে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) স্বীকার করে, তাদের নিয়োগ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের আগেই নির্মাণস্থলের চারপাশে চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছিল। আদালতে তারা জানিয়েছে, আপাতত এ ধরনের কাজ আর করা হবে না।

মামলার প্রধান বাদী মাইকেল লেমন শুনানিতে বলেন, পুরো পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি তাড়াহুড়ো করে একটি পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে কংগ্রেসকে ইচ্ছাকৃতভাবে পাশ কাটানো হয়েছে এবং আর্লিংটনের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন উপেক্ষা করা হয়েছে।

গত আগস্টে প্রকাশিত ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের এক পর্যালোচনায় বলা হয়, প্রস্তাবিত তোরণটি প্রায় ৪২টি ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রি ও লিঙ্কন মেমোরিয়ালসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যালোচনায় আরও বলা হয়, ক্যাপিটল হিল, জর্জটাউন ওয়াটারফ্রন্ট ও পেন্টাগন থেকেও তোরণটি দৃশ্যমান হবে। এতে ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যপটের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঐতিহাসিক সংরক্ষণ আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক সংরক্ষণ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ও সমঝোতা প্রয়োজন। তবে গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ওই ধারার অধীনে পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ করে কোনো চুক্তি ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোয়।

এনসিপিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই স্বরাষ্ট্র বিভাগ প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু আদালতের ১৫ দিনের স্থগিতাদেশে আপাতত থেমে গেছে নির্মাণের তোড়জোড়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের কাছে পরাজয়ের পর আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সূত্র: সিএনএন

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com