সফিউর রহমান সফিক
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:৪৭ এএম

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের আগেই বলির পাঠা কর্মকর্তা-কর্মচারী
————————————————————————
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার কর্মকর্তাদের জড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক ইনকিলাবের অনলাইন সংস্করণে “শামীম-কেশবদের ঘুষের হাট…” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। ওই সংবাদে আনীত অভিযোগগুলোর “সত্যের লেশমাত্র নেই” বলে তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার), তদন্ত কমিটি ঢাকা জেলা প্রশাসকের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি সূত্র থেকে তথ্য জানা গেছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোঃ শামীম হুসাইন, ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা-৩ এর সার্ভেয়ার কেশব লাল দেব এবং সার্ভেয়ার আব্দুল বারিক সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হলেন।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও কমিটির পর্যবেক্ষণ
গত ৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ঢাকা জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় ক্ষতিপূরণের শত শত মামলা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঝুলিয়ে রেখে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে এডিসি শামীম হুসাইন ও সার্ভেয়াররা জড়িত। সংবাদটি প্রকাশের পর পরই জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট শাখার নথি পর্যালোচনা, ভুক্তভোগী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নিবিড় অনুসন্ধান শেষে তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়:
১. অভিযোগের ভিত্তিহীনতা
প্রকাশিত সংবাদে যে ধরনের অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল, তার সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা নথিপত্র মেলেনি।
২. নিয়মমাফিক সেবা প্রদান
এল এ শাখায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ম মেনেই বিতরণ করা হচ্ছে। কোনো ফাইল অন্যায়ভাবে আটকে রাখার প্রমাণ মেলেনি। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৩. কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা
তদন্ত কমিটির মতে, প্রশাসনের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে এবং তাদের সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই স্বার্থন্বেষী মহলের প্ররোচনায় এই ধরনের মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
৪ .নির্দোষ প্রমাণিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, নিম্নোক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ অসত্য ছিল
• মোঃ শামীম হুসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ), ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়।
• কেশব লাল দেব, সার্ভেয়ার, ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা-৩।
• আব্দুল বারিক, সার্ভেয়ার, ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ কালে তারা জানান, বস্তুনিষ্ঠতা বজায় না রেখে কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করা দুঃখজনক। বর্তমান প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করছে এবং এই তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে এলএ শাখার কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে।
মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংবাদের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের জন্য গঠিত এই তদন্ত কমিটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে কাজ করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দৈনিক ইনকিলাবের সংশ্লিষ্ট বিশেষ প্রতিবেদককে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্রসহ তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে বিবাদী পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হলেও উক্ত প্রতিবেদক তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি এবং কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই কাল্পনিক সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছিল, যা সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি অপচেষ্টা। কোনো সত্যতা না পাওয়ায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় এই রিপোর্টটি প্রকাশিত হওয়ার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে এক আদেশে কেশব লাল দেব ও আব্দুল বারিককে বদলি করা হয় সম্প্রতি । তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এ সমাজের চোঁখে অপরাধী ও প্রশাসনিক আদেশ এ বলির পাঠা হলেন শামীম হোসাইন, কেশব লাল দেব ও আব্দুল বারিকরা । তাহলে কি অন্যায়ের কাছে ন্যায়ের পরাজয় ? এমন প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলের ।
এদিকে আরো জানা গেছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা (এল এ শাখায়) ৫ আগস্ট এর পর ফ্যাসিস্ট এর দোসরা তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে বদলির আদেশ নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে ঢাকা এল এ শাখায় ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায়। এই চক্রটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এই বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে নজর দিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভিতর গাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের এই সমস্ত দোসরদের চিন্তিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত