সর্বশেষ
নরসিংদীতে ২ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ ‘একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব, এটা কাম্য নয়’ মালয়েশিয়ায় বজ্রপাতে কসবার যুবকের মৃত্যু শিশু মাহিদা ধর্ষণ-হত্যা: জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা ও আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে আদালতে তোলপাড় ইব্রাহিমি মসজিদে বেন-গভির, ফিলিস্তিনিদের ওপর কড়াকড়ি মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ নবীনগরের ঐতিহাসিক মঠ ধ্বংসের মুখে গাইবান্ধায় অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে জরিমানা

সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে তিতাস পাড়ের প্রায় ২০০ ফুট উঁচু মঠটি হারিয়ে যেতে বসেছে

নবীনগরের ঐতিহাসিক মঠ ধ্বংসের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২:৫০ পিএম

নবীনগরের ঐতিহাসিক মঠ ধ্বংসের মুখে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর শহরের তিতাস নদীর তীর ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতা ও ৯০ ফুট বেড়বিশিষ্ট ঐতিহাসিক মঠ। একসময়ের ঐতিহ্য ও জমিদার পরিবারের স্মারক এই স্থাপনাটি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, দুই শতকের ইতিহাস বহনকারী এই স্থাপনাটি রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপসহ দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ২০০ বছর আগে নবীনগরের জমিদার সীতারাম পোদ্দারের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁর ছেলে গোপীনাথ চৌধুরীর স্ত্রী রাধারানী রায় চৌধুরানী এই মঠটি প্রতিষ্ঠা করেন। নবীনগর মৌজার সাবেক সেটেলমেন্টের ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২৬৬১ দাগের ০.০২ একর ভূমির ওপর এটি নির্মিত হয়। সে সময় সিমেন্টের প্রচলন না থাকায় ইট ও বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি চুনের মিশ্রণ ব্যবহার করে তিতাস নদীর তীরে মঠটি নির্মাণ করা হয়। এর নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছিল।

১৯৫০ সালের একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মঠটির চূড়ার কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কামানের গোলার আঘাতে মঠের চূড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত থাকলেও, এর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দেশভাগের পর জমিদার পরিবারের বংশধররা ভারতে চলে যাওয়ায় মঠটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। জানা যায়, ১৯৪৭ সালের আগে মঠটির ভেতরে কামিনী বাবু নামের এক দর্জি কাজ করতেন। পরবর্তীতে রাধারানী রায় চৌধুরানীর পৌত্র গোপাল চন্দ্র রায় চৌধুরী মঠের জায়গাটি সালাম মেম্বারের কাছে বিক্রি করেন।

২০১১ সালের আগস্ট মাসে নবীনগর পৌরসভার উদ্যোগে মঠটির আংশিক সংস্কার করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা না থাকায় স্থাপনাটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

একটি প্রাচীন স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার অর্থ কেবল একটি স্থাপত্যকর্মের বিনাশ নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি জনপদের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তাই নবীনগরের এই ঐতিহাসিক মঠটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com