সর্বশেষ
২০২৭ সালের হজে এক চুক্তিতেই মিলবে সব সেবা পাইলটকে ছুরিকাঘাত, ‘হাইজ্যাক’ সংকেত; জরুরি অবতরণ বিমানের মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, সিটি করপোরেশনের ৩ গাড়িতে আগুন গাজীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ, দা ধরে স্ত্রী-সন্তানকে জিম্মি মহাখালীতে বন্ধক রাখা ফ্ল্যাট নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, তদন্তে পুলিশ লালপুরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় পথচারী নিহত তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠাতে পারবেন ট্রাম্প, স্থগিতাদেশ তুলে নিল সুপ্রিম কোর্ট প্রথম স্বর্ণ শোধনাগার উদ্বোধন, পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি ত্রাওরের আইএলটি-টোয়েন্টির নিলামে ১০ বাংলাদেশি, সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে তাসকিন-নাহিদ-রিশাদ ইরানের ভেতরে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: পেজেশকিয়ান

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের অপপ্রয়োগ চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩:২১ পিএম

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের অপপ্রয়োগ চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর অপপ্রয়োগ চান না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এ আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য তৈরি খসড়া বিলটি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি ও আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আইনটি যেন নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে। খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিশ্ব সংবাদপত্র সংগঠন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের বৈঠকটি ছিল তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠক।

তিনি বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’

গণমাধ্যম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সাইবার বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরও মতামত নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনে সেভিং ক্লজ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। বিষয়টি উপযুক্ত মনে হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যে সুপারিশগুলো আসবে, তার মধ্যে এ প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে থাকবেন না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুপারিশগুলো সমন্বয়ের জন্য পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইটি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সমন্বয় করবে। সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশগুলো পাওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এরপর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখনও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। মতামত গ্রহণযোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে। এরপর কেবিনেটে বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। কেবিনেট অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদে গেলেও বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না। সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা সেখানে আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারবো, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজকে আমরা রক্ষা করতে পারবো।’

সাইবার স্পেসে বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। সামাজিক সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধন অক্ষুণ্ন রেখে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি করা হবে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com