সর্বশেষ
ফাইনাল স্পেনে না হলে বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানে বাস-ডাম্পার সংঘর্ষে নিহত ৮, আহত ৩০ নির্বাচনে ভরাডুবির পর আদালতের ধাক্কা, ট্রাম্পের ‘মেগা তোরণ’ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, রাজপথে প্রায় ৬ লাখ মানুষ ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় আখাউড়ায় নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত শিল্পকারখানা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী মাধবপুরে ভাঙনের মুখে প্রধান সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার এলাকাবাসীর প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, এক রাতেই আটক ২৯৯

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, রাজপথে প্রায় ৬ লাখ মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ৪:৫২ পিএম

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, রাজপথে প্রায় ৬ লাখ মানুষ

সংগৃহীত ছবি

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের নীতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে অন্যতম বৃহৎ গণবিক্ষোভ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লেও বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত। তবে রেন, নান্টেস, লিঁও ও মার্সেইসহ কয়েকটি বড় শহরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সারা দেশে ৪৪৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ধর্মঘটের প্রভাবে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, রেল যোগাযোগ এবং কিছু হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ডাকসেবা কর্মী, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান ইউনিয়নগুলো এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৩ শতাংশ বিদ্যালয়ের কর্মীরা এতে অংশ নেন। তবে ইউনিয়নগুলোর দাবি, ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

রেলকর্মীদের কর্মবিরতিতে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের মাত্র ৫ শতাংশ কর্মী ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।

এবারের আন্দোলনে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও আট বছর আগে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা একসঙ্গে রাজপথে নেমেছেন। প্রত্যেক পক্ষের দাবি আলাদা হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারের নিষ্ক্রিয়তা, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাদের একই আন্দোলনে যুক্ত করেছে।

বৃহস্পতিবার লিঁও শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। রেন শহরে কয়েক ডজন বিশৃঙ্খলাকারী একটি হোটেলে ভাঙচুর চালায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদরত ইউনিয়ন সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়াঁদ গেফ্রে জানিয়েছেন, তুলুজের কাছে একটি বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে অন্তত ৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাড়া দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বলেন, সহিংসতার বিভিন্ন চেষ্টা সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যরা সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। নাগরিকেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপদে প্রতিবাদের অধিকার চর্চা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করেছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বেতন ও পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রভাবশালী ইউনিয়ন সিজিটি অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি তুলেছে। অন্যদিকে সিএফডিটি কর্মীদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১০০ ইউরো বা প্রায় ৭ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো শিক্ষা খাতে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার আসন সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তাঁর সরকারের পদত্যাগ এবং নতুন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরুর দাবি তুলেছেন।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। আগামী বড়দিন, এমনকি আগামী বসন্তে অনুষ্ঠেয় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত এই অসন্তোষ ও রাজপথের আন্দোলন চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীরাও ধারাবাহিক বিক্ষোভের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।

ফ্রান্সের এই আন্দোলনের প্রভাব ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামেও চলতি মাসের শেষ দিকে একই ধরনের বড় ধর্মঘটের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পর এবার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। রাস্তায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করে সহিংসতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও জনগণের দাবি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।

ফরাসি সাংবাদিক ও ইউটিউবার উগোদেক্রিপ্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, ছুটির পর সব হাইস্কুল খুলুক, সেটিই তিনি চান। তরুণদের ভবিষ্যতের সঙ্গে বিষয়টি জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসা প্রয়োজন। তরুণদের দাবিগুলো সরকার ইতোমধ্যে শুনেছে জানিয়ে তিনি বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অন্তত হাইস্কুলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান।

সূত্র: সিএনএন

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com