সফিউর রহমান সফিক
প্রকাশ : ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | ৩:১১ এএম

নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার আলোচিত ও বিতর্কিত কানুনগো বিলিয়ন বিপুর বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির মাধ্যমে পাহাড় সমান সম্পদ গড়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। ঘুষ দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং অনিয়মের মাধ্যমে তিনি দেশে-বিদেশে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। মুন্সিগঞ্জে বদলি হওয়ার পরও বর্তমানে মোটা অঙ্কের টাকা ঢেলে পুনরায় নারায়ণগঞ্জে ফেরার জোর তদবির চালাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
নিচে তার অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো:
নারায়ণগঞ্জ এলএ শাখার ‘সিন্ডিকেট কিং’
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে এলএ শাখায় একক আধিপত্য তৈরি করেন। এছাড়া ঐ শাখা থেকে ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া , ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক পাস, জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও ফাইল আটকে রেখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ ওঠার পর সম্প্রতি তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে শাস্তিমূলকভাবে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় বদলি করা হয়।
আলাদিনের চেরাগ নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়
একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও বিলিয়ন বিপুর জীবনযাত্রা ও সম্পদ অর্জনের খতিয়ান রূপ কথাকেও হার মানায় ।
অভিজাত ফ্ল্যাট ও বাড়ি রাজধানী ঢাকার একাধিক অভিজাত এলাকায় তার নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বহুতল বাড়ির সন্ধান মিলেছে।
শত বিঘা জমি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও তার পৈতৃক এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নামে-বেনামে শত শত বিঘা বাণিজ্যিক ও কৃষিজমি কিনেছেন।
ব্যাংক ব্যালেন্স ও ব্যবসা: দেশী-বিদেশ� বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থ প্রচারের মাধ্যমে ম্যালেশিয়াতে পরিবারের সদস্যরা সেকেন্ড হোম নিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে কানুনগো বিলিয়ন বিপু একাধিক
তদবির কারক ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে লবিং ও তদবির শুরু করেছেন। এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে তিনি তার পূর্বের সিন্ডিকেটকে আবারো সচল করার পাঁয়তারা করছেন কানুনগো বিলিয়ন বিপু’র মতো দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের কারণে সরকারের ভূমি সেবার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। একজন তৃতীয় বা দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী হয়ে কীভাবে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক অবিলম্বে তার ও তার পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন বিভিন্ন মহল। এর সাথে নারায়ণগঞ্জ এল এ শাখায় তার আমলের সকল ফাইলের অডিট বা বিশেষ নিরীক্ষার ও আর্থিক লেনদেনের উৎস নিশ্চিত করতে কানুনগো বিলিয়ন বিপুর ব্যাংক হিসাবসমূহ অনতিবিলম্বে অবরুদ্ধ (Freeze) করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে তদবিরের মাধ্যমে পুনরায় যেন তিনি নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পদায়ন না পান, সে ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি করা দরকার।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত