সর্বশেষ
লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে আমরাই আগে আয়োজন করতাম: প্রধানমন্ত্রী হরমুজের পর বাব-আল মান্দেবেও হুথিদের পাশে ইরানের শত শত আইআরজিসি কর্মকর্তা আগামী বছর পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন: পানিসম্পদমন্ত্রী হুতিদের দমাতে সৌদিতে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে নৌপথে অস্থিরতা, তেলের দাম ছাড়াল ১০৮ ডলার কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে দেওয়া হলো, প্লাবিত রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা নিলামে উঠছে ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’, দাম উঠতে পারে ৩ লাখ ডলার শচীনের রেকর্ড ভাঙার পথে জো রুট, কতটা দূরে ইংলিশ তারকা? কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; সাপের আতঙ্কে বানভাসি মানুষ সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন

চীনে অনিশ্চয়তা বাড়তেই ভারতে ছুটছে জাপানি কোম্পানিগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:২৪ পিএম

চীনে অনিশ্চয়তা বাড়তেই ভারতে ছুটছে জাপানি কোম্পানিগুলো

সংগৃহীত ছবি

চীনকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই ভারতের দিকে ঝুঁকছে জাপানি কোম্পানিগুলো। ভোক্তা পণ্য, খুচরা ব্যবসা, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি ও উৎপাদন—প্রায় সব খাতেই ভারতের বাজারে জাপানি বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি বেড়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি জাপান সফরে দেশটির সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো।

ভারতের বড় শহরগুলোর শপিংমল ও প্রধান সড়কেও এখন জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো। ইউনিক্লো, মুজি ও অনিতসুকা টাইগারের মতো ব্র্যান্ড ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। জাপানের আসবাব নির্মাতা নিটোরিও সম্প্রতি ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে।

আর কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন লসন ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটিতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মুম্বাই দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।

ব্যাংকিং থেকে প্রযুক্তি—সবখানেই জাপানি বিনিয়োগ

ভারতের আর্থিক খাতেও জাপানি বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে। জাপানের বৃহত্তম ব্যাংক এমইউএফজি গত বছর ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। একই বছর সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হয়।

প্রযুক্তি খাতেও জাপানের উপস্থিতি বাড়ছে। ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে শতাধিক জাপানি প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রে গবেষণা ও উন্নয়ন, করপোরেট কৌশল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে।

নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা ভিপুল নাথ জিন্দালের মতে, জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতের দিকে তাকানো এখন অনেকটা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। কারণ, জাপানের জনসংখ্যা টানা ১৬-১৭ বছর ধরে কমছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বাজারের আকারও সংকুচিত হচ্ছে।

চীনের বিকল্প হিসেবে ভারত?

জাপানের জন্য চীন দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বাজার। কিন্তু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সেখানে বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও শুল্ক ও প্রতিযোগিতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের বাজার তুলনামূলক ছোট। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য বিশাল ভারতীয় বাজারকে জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জুলাইয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রথম দিল্লি সফরের সময় আয়োজিত এক সম্মেলনে জাপানি কোম্পানিগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেমিকন্ডাক্টর ও সবুজ জ্বালানির মতো ভবিষ্যৎমুখী খাতেও রয়েছে এসব বিনিয়োগ।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, জাপানের ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ হতে পারে।

শুধু বড় কোম্পানি নয়, জাপানের ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোও ভারতের বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো প্রতিষ্ঠানের জন্মস্থান হামামাতসু শহরে গঠন করা হয়েছে ‘হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি’। ভারতের বাজারে শহরটির ছোট কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।

ভারতেও আছে চ্যালেঞ্জ

ভারতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়লেও চীনে জাপানের নিট বিনিয়োগ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, এর অর্থ জাপানি কোম্পানিগুলো চীন ছেড়ে চলে যাচ্ছে—এমন নয়। বরং ঝুঁকি কমাতে তারা বিনিয়োগের পরিধি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সিডনিভিত্তিক লোয়ি ইনস্টিটিউটের ইন্ডিয়া চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাইয়ের মতে, চীনসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারত জাপানের জন্য এক ধরনের ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ হিসেবে কাজ করছে। জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ভারতের উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে।

তবে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। করসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশগত অনুমোদনে বিলম্বের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

বুলেট ট্রেন প্রকল্পের বিলম্ব নিয়েও সম্প্রতি জাপানের এক সাবেক মন্ত্রী ভারতের সমালোচনা করেছেন। ভারত সরকার অবশ্য তাঁর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সব মিলিয়ে চীনকে ঘিরে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের দিকে জাপানি বিনিয়োগের স্রোত বাড়ছে। এখন এই বিনিয়োগ ধরে রাখা এবং আরও নতুন জাপানি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে ভারত কতটা কার্যকরভাবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে পারে, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন।

সূত্র: বিবিসি

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com