সর্বশেষ
লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে আমরাই আগে আয়োজন করতাম: প্রধানমন্ত্রী হরমুজের পর বাব-আল মান্দেবেও হুথিদের পাশে ইরানের শত শত আইআরজিসি কর্মকর্তা আগামী বছর পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন: পানিসম্পদমন্ত্রী হুতিদের দমাতে সৌদিতে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে নৌপথে অস্থিরতা, তেলের দাম ছাড়াল ১০৮ ডলার কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে দেওয়া হলো, প্লাবিত রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা নিলামে উঠছে ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’, দাম উঠতে পারে ৩ লাখ ডলার শচীনের রেকর্ড ভাঙার পথে জো রুট, কতটা দূরে ইংলিশ তারকা? কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; সাপের আতঙ্কে বানভাসি মানুষ সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন

কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; সাপের আতঙ্কে বানভাসি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩৭ এএম

কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত; সাপের আতঙ্কে বানভাসি মানুষ

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে সড়ক ও আবাদি জমি। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান।

পানি ওঠায় রান্নার জায়গা ও চলাচলের পথ তলিয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। ঘরবাড়ি ও বসতভিটার আশপাশে সাপের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষ।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে।

শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ০২। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০। অর্থাৎ পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণেই পদ্মায় দ্রুত পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা, ডিঙি নৌকা ও ভেলা হয়ে উঠেছে চলাচলের প্রধান মাধ্যম। অনেক পরিবারের রান্নার জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে তাঁর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। পানির দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও দিশেহারা মানুষ।

এদিকে, পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গত বুধবার দুপুরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

দুর্গতদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com