ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:০৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ ১ ডলারের স্মারক মুদ্রা বাজারে এনেছে দেশটির টাকশাল ইউএস মিন্ট। নজিরবিহীন এই মুদ্রায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রায় এক শতাব্দী পর কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির ধাতব মুদ্রায় স্থান পেল। এর আগে ১৯২৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি মার্কিন মুদ্রায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
গত জুলাইয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মুদ্রাটির নকশা উন্মোচন করেন। মুদ্রার এক পাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সঙ্গে রয়েছে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৪’ লেখা। অন্য পাশে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সিলের নকশা এবং ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ ও ‘ওয়ান ডলার’ লেখা।
মুদ্রাটির অভিহিত মূল্য ১ ডলার হলেও সংগ্রাহকদের জন্য এটি চড়া দামে বিক্রি করছে ইউএস মিন্ট। ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুটি রোল বা ব্যাগ কিনতে পারবেন।
সোনালি রঙের এই মুদ্রায় অবশ্য কোনো মূল্যবান ধাতু নেই। ০.২৮৬ আউন্স ওজনের মুদ্রাটি মূলত ম্যাঙ্গানিজ ব্রাস দিয়ে তৈরি। আর বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এটি লেনদেনে গ্রহণ করতে বাধ্যও নয়।
আইন নিয়ে প্রশ্ন
ট্রাম্পের প্রতিকৃতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঘিরে এরই মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতাদের দাবি, মার্কিন আইনে মুদ্রা ও সিকিউরিটিজে কেবল মৃত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ব্যবহারের বিধান রয়েছে।
অরেগন ও নেভাদার ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতারা মুদ্রায় ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনও রাজতন্ত্রের প্রতীক মনে করে মুদ্রায় নিজের ছবি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন।
আইনের ফাঁকেই কি ট্রাম্পের ছবি?
বিতর্কের জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টেবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর একটি বিধানের ব্যাখ্যা সামনে এনেছে। প্রশাসনের দাবি, আইনে মুদ্রার উল্টো পিঠে জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামনের অংশে এ বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যাকে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্বাহী প্রভাবের নতুন নজির তৈরি হতে পারে।
ফলে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত এই ১ ডলারের মুদ্রা শুধু সংগ্রাহকদের আকর্ষণের বিষয় নয়; এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের আইন, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত