ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২:২০ পিএম

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সামরিক পদক্ষেপসহ একাধিক বিকল্প পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। বছরের শেষ নাগাদ সেখানে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে সিউল।
তবে হরমুজে সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত সরকার নিয়ে ফেলেছে—গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর তা সরাসরি নাকচ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জেটিবিসি ও এমবিসিসহ কয়েকটি গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার রাতে জানায়, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিউল। এ বিষয়ে চলতি মাসেই সংসদের অনুমোদন চাওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যেসব সরঞ্জাম পাঠানোর কথা ভাবছে সিউল
বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি রসদ সরবরাহকারী জাহাজ এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণকারী একটি ইউনিট।
এ ছাড়া সম্ভাব্য সহায়তার ধরন ও পরিধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় কীভাবে বাস্তবসম্মত অবদান রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সামরিক পদক্ষেপও বর্তমানে বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর একটি।
তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া, কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক প্রস্তুতি এবং সংসদীয় অনুমোদনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো সহায়তা করছে না—এমন দাবিও নাকচ করেছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবসম্মত অবদানের বিষয়ে সিউল দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করে আসছে।
আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো আলোচনা করতে পারেন।
এর আগে গত আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে দক্ষিণ কোরিয়া অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কিছুটা কমিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত