ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৫৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও রয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৩ জনে। খবর আল জাজিরার।
এদিকে গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা হামলায় আহত ১৩ জনকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আহতদের বেশ কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, চিকিৎসকরা আহতদের জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের ইসরাইলি হামলা ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াফা।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও দুজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবরও পাওয়া গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত নয়জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আগের আঘাতের কারণে এক নারী মারা গেছেন। তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার ২৬ জন; এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।
গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরাইলি বাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
তিনি বলেন, অবরুদ্ধ গাজায় সুপারমার্কেটে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন—সবকিছুতেই মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা—প্রায় ২ লাখ ভবন—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এসব স্থাপনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত