ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দেশটিতে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সৌদি সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছেন এসব মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গঠিত একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের আওতায় এই সহযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা এবং তাদের প্রতি ইরানের সহায়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সহায়তায় সৌদি বাহিনী উন্নত একটি লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং ভৌগোলিক অবস্থানভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যবস্থাটি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে তুলনীয় বলে জানা গেছে।
তবে সৌদি আরবকে এবার সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করছে না যুক্তরাষ্ট্র। অতীতে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন বাহিনী সরাসরি বিমান হামলা এবং যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহ করলেও বর্তমান সহযোগিতা মূলত গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্য নির্ধারণ ও সামরিক পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রাভিযান এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বেড়ে যাওয়ায় এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে সংঘাত ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এরই মধ্যে লোহিত সাগরের একটি কৌশলগত বন্দর দখলে নিয়েছে হুতিরা। এতে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, ইয়েমেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের শত শত কর্মকর্তা হুতিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
তবে সৌদি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে। অতীতে সৌদি বাহিনীকে মার্কিন লক্ষ্য নির্ধারণ-সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার পর ইয়েমেনে বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই সৌদি অভিযানে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়ে সীমিত সামরিক সহায়তার পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
এদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীও বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েন এবং যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ কমে আসার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ অবস্থায় হুতিদের মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ নিরাপদ রাখতে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহযোগিতা জোরদার করলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: সিএনএন



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত