সর্বশেষ
সিলেটে এক বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার ইরানের পথে জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিশ্ব হাতি দিবস আজ: আবাসস্থল সংকটে লোকালয়ে বাড়ছে হাতির হানা প্রেমিকাকে বিয়ের ‘বদলা’ নিতে মাদকের ফাঁদ, শেষমেশ জেলে সাবেক প্রেমিক বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নারীকে পুশইন, ফেরাতে হাইকোর্টে পরিবার গাঁজা সেবন করে বিমান চালাচ্ছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট, দুই দফা ডোপ টেস্টে পজিটিভ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ২৫৪ বিয়ে করলেই ৫ লাখ টাকা! তবে রয়েছে কঠিন কিছু শর্ত মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় জুন ক্লোজিং এর নামে প্রকল্পের টাকা হরিলুট ! নেপথ্যের নায়ক পিআইও এবং তার অফিস সহায়ক বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ পাইকগাছাবাসী, ধ্বস নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে

বিশ্ব হাতি দিবস আজ: আবাসস্থল সংকটে লোকালয়ে বাড়ছে হাতির হানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ অগাস্ট ২০২৬ | ৭:২৩ এএম

বিশ্ব হাতি দিবস আজ: আবাসস্থল সংকটে লোকালয়ে বাড়ছে হাতির হানা

আজ ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস। হাতির বিলুপ্তি ঠেকানো, আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য—‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি।’

বাংলাদেশে হাতির আবাসস্থল দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। পাহাড় কেটে বসতি, বন দখল, গাছপালা ধ্বংস ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হাতির চলাচলের করিডরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্যহাতি। এতে ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে মানুষ-হাতির সংঘাত।

চুনতি বনে বসতি, সংকটে হাতির আবাস

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আবদুর রহমান একসময় সাগরে মাছ ধরে জীবিকা চালাতেন। ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে বছরে কয়েকবার জোয়ারের পানিতে তাঁর ঘরবাড়ি ডুবে যেত। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দুই বছর আগে পরিবার নিয়ে চুনতি সংরক্ষিত বনে বসতি গড়েন তিনি। এখন বননির্ভর কাজ করেই ছয় সদস্যের পরিবার চালান।

বাঁশখালীর পশ্চিম বড়ঘোনার মনসুর আলমসহ আরও অনেক পরিবারও চুনতি সংরক্ষিত বনে বসতি গড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু পূর্ব জঙ্গল চাম্বল অংশেই ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার বসবাস করছে। পুইছড়ি, নাপোড়া, জলদি ও কালীপুর অংশেও বনভূমিতে বসতি গড়ে উঠেছে।

মানুষের বসতি ও চাষাবাদে কমছে হাতির খাদ্যযোগ্য গাছপালা। সংকুচিত হচ্ছে তাদের আবাসস্থল ও চলাচলের পথ। ফলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসছে হাতির পাল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সপ্তাহেও রাতে হাতির পাল এসে কলাবাগান ও সবজির ক্ষেত নষ্ট করেছে। হাতি লোকালয়ে এলে বাসিন্দারা শিস দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। পরে আগুন জ্বালিয়ে হাতিকে বনের দিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন।

জলদি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার ইসরাইল হক বলেন, সংরক্ষিত বন ও লোকালয় পাশাপাশি হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল। বনের জমিতে বসতি স্থাপনের কারণে হাতি-মানুষের সংঘাতের ঝুঁকি বেড়েছে। হাতির আবাসস্থল রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান তৈরির কাজ চলছে।

বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী মনিরা পারভিন বলেন, সংরক্ষিত বনে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ফলে প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী ও মানুষ—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে পাহাড়ে বসতি বাড়তে থাকলে হাতির সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়বে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হাতি গবেষক অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, হাতির আবাসস্থল বনাঞ্চল। বন সুস্থ না থাকলে খাবারের সন্ধানে হাতি লোকালয়ে চলে আসবে। হাতি রক্ষায় নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত পানি ও খাবার নিশ্চিত করতে হবে।

এক দশকে চুনতিতে ১৪ হাতির মৃত্যু

প্রায় ১৯ হাজার একর আয়তনের চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বড় একটি অংশ বাঁশখালী উপজেলায়। উপজেলার পূর্ব পাশের পাহাড়ি এলাকার পুরোটাই সংরক্ষিত বন এবং হাতির চলাচলের করিডর।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে ১০২টি হাতি মারা গেছে। এর মধ্যে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বাঁশখালী অংশে মারা গেছে ১৪টি।

বাংলাদেশে এশীয় হাতি ‘মহাবিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) হাতিকে লাল তালিকাভুক্ত করে।

দেশে হাতির সংখ্যা কমেছে

দেশে হাতির সংখ্যা ও বিচরণক্ষেত্র জানতে ১৯৮০, ২০০০ ও ২০১৬ সালে তিনটি সরকারি জরিপ হয়।

১৯৮০ সালের জরিপে দেশে হাতির সংখ্যা ছিল ৩৮০টি। ২০০০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৩৯টিতে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের জরিপে ২৬৮টি হাতির সন্ধান পাওয়া যায়।

বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএনের মতে, হাতি-মানুষের সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হাতির ঐতিহ্যবাহী চলাচলের পথ বা ‘এলিফ্যান্ট করিডর’ ধ্বংস হওয়া। পাহাড় কেটে বসতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে এসব করিডর দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।

গারো পাহাড়ে বাড়ছে হাতি, সঙ্গে ঝুঁকিও

শেরপুরের গারো পাহাড়ে গত কয়েক বছরে হাতির সংখ্যা বেড়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে সেখানে অন্তত ৫৫টি হাতির শাবক জন্মেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগে গারো পাহাড়ে ১০০ থেকে ১২০টি হাতির বিচরণ থাকলেও বর্তমানে এ সংখ্যা ১৮০ থেকে ২০০টিতে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় ৩৪টি হাতির একটি পাল দেখা গেছে। ওই পালে ৮ থেকে ১০টি শাবক ছিল বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

তবে বন উজাড়, অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন, বন দখল ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাতির খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে। ফলে হাতি প্রায়ই লোকালয়ে নেমে আসছে। এতে সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।

শেরপুর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মো. নুরুল করিম বলেন, হাতি-মানুষের সংঘাত কমাতে বনের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বালিজুরি রেঞ্জের প্রায় ১১৫ হেক্টর বনভূমিতে হাতির উপযোগী খাদ্যসমৃদ্ধ বাগান তৈরির কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতি রক্ষায় শুধু লোকালয়ে হাতির প্রবেশ ঠেকালে হবে না। তাদের নিরাপদ আবাসস্থল, চলাচলের করিডর, পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে মানুষ ও হাতির সংঘাত আরও বাড়বে, হুমকিতে পড়বে দেশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com