ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | ১০:৩০ এএম

সংগৃহীত ছবি
উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্কের অংশগ্রহণে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পর্যটন শহর কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করে ফেরিটি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর যাত্রা শুরু হয়।
যাত্রার পর ফেরিটি দুটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে পড়ে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার সময় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানলে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে এটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ও কোস্টগার্ডের নৌযান পাঠানো হয়। তীরে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ জনকে তীরে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা কোচ নিজের নৌকা নিয়ে প্রায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, সেদিন সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্র শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরিটির যাত্রা করা উচিত ছিল না। তাঁর দাবি, ফেরিটি শনিবার কিরেনিয়ায় পৌঁছানোর সময় সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
‘ফিলো জেট’ নামের উচ্চগতির ফেরিটি ৪০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি তুরস্কের পতাকায় চলাচল করত। রবিবার সন্ধ্যায় পরিবহনমন্ত্রী জানান, ফেরিটি পুরোপুরি ডুবে গেছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য অবহেলা খতিয়ে দেখতে ফেরিটির ক্যাপ্টেন ও সাতজন ক্রুকে আটক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল বলেছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং কোনো ধরনের অবহেলা পাওয়া গেলে দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
ফেরিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলো দেনিজজিলিক দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য জানাতে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের জাতীয়তা ও আহতদের বর্তমান অবস্থা এখনও জানা যায়নি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তুর্কি সাইপ্রিয়টদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছেন।
উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রকে শুধু তুরস্ক স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দ্বীপটি বিভক্ত। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তর সাইপ্রাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি





© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত