ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:৩১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নয়জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে উড়োজাহাজটির লেজের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নতুন সূত্র পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) সদস্য টম চ্যাপম্যান মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া অংশটি উড়োজাহাজের বাম পাশের এলিভেটরের বড় একটি অংশ। এটি উড়োজাহাজের সামনের অংশ বা নাক ওপরে-নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এলিভেটরের ওই অংশটি তিন টুকরো হয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি অক্ষত না থাকলে উড়োজাহাজের নাক নিচের দিকে নেমে যাওয়ার পর সেটিকে আবার ওপরে তোলা পাইলটের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
বার্তা সংস্থা এপি ও সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি গত রোববার (১ নভেম্বর) টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকরস এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়। এতে থাকা দুই পাইলট ও সাত যাত্রীসহ নয়জনের সবাই নিহত হন।
এনটিএসবি সদস্য টম চ্যাপম্যান বলেন, উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে এত দূরে পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই সেটি বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তবে অংশটি বিচ্ছিন্ন হওয়াই দুর্ঘটনার কারণ, নাকি উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সৃষ্ট প্রচণ্ড চাপের কারণে সেটি খুলে যায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির সহকারী পাইলট নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের সময় উড়োজাহাজে বরফ জমার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তীব্র ঝাঁকুনিতে উড়োজাহাজটি ৭০০ ফুটের বেশি ওপর-নিচে দুলছিল বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট আগে প্রেমিককেও বার্তা পাঠিয়ে উড়োজাহাজে বরফ জমা ও তীব্র ঝাঁকুনির কথা জানিয়েছিলেন নাতালিয়া। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চ্যাপম্যান জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আবহাওয়া পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উড়োজাহাজে বরফ জমা, বৃষ্টি ও তীব্র ঝাঁকুনির কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনই দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
উড়োজাহাজটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আঘাতের তীব্রতায় মাটিতে বড় গর্ত তৈরি হয়। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করছেন। তবে কিছু অংশ এতটাই ক্ষুদ্র হয়ে গেছে যে সেগুলো উড়োজাহাজের কোন অংশের, তা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত দুর্ঘটনার আঘাতে তৈরি গর্তের ভেতরে অনুসন্ধান শুরু করেননি তদন্তকারীরা। বুধবার থেকে সেখানে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
নিহত যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন অস্টিনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প এবং তাঁদের চার বছর বয়সী মেয়ে এমা ও দুই বছর বয়সী ছেলে চার্লি। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আনি্তা মারিয়া সেতিনা এবং দুই পারিবারিক বন্ধু র্যাচেল রিড ও চারমি ফেয়ার।
উড়োজাহাজটির পাইলট জেফ গ্রেগরির বয়স ছিল ৫৫ বছর। অন্যদিকে সহকারী পাইলট নাতালিয়ার বয়স ছিল ২০ বছর।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনটিএসবি। সংস্থাটির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। তবে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: পিপলডটকম ও এপি।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত