নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬:৪৭ এএম

সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা। এ বিষয়ে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। তবে বিল পাসের আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। অন্যদিকে, বাবা-মায়ের অধিকার সুরক্ষায় বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছে সরকারি দল।
বিলের নতুন বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছ থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে সম্পত্তি দান করা হলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রেও দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে।
দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলেও দাতার ভোগাধিকার থাকবে। পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। সংশোধনের মাধ্যমে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, নতুন বিধানটি সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর হবে। এতে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীনে হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে বিলটির বিরোধিতা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বিলটিকে কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি দাবি করে তা পাস না করার আহ্বান জানান।
তার দাবি, দাতার আজীবন সম্পত্তি ভোগের সুযোগ রাখা হলে ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের বিধানকে পাশ কাটানোর আশঙ্কা রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির অধিকার নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত