সর্বশেষ
চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগীর ক্ষতি যেন না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর, কার্যকর ২০৩০ থেকে গাজায় গণহত্যা অব্যাহত, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নতুন অভিযোগ টুপটুপ রেস্তোরাঁয় আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তা জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: তারেক রহমান একাদশে ভর্তির আবেদনের শেষ সুযোগ আজ, রাত ৮টায় শেষ হচ্ছে সময় গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, দেড় ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে বগুড়ায় আদালত চত্বরে তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা ব্যালন ডি’অরে ১৩ পুরস্কার, কে জিতলেন কোন বিভাগে

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: সুড়ঙ্গের ‘এয়ার পকেটে’ ৯ দিন বেঁচে ছিলেন দুই জলবিদ্যুৎকর্মী

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২:৫৯ পিএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: সুড়ঙ্গের ‘এয়ার পকেটে’ ৯ দিন বেঁচে ছিলেন দুই জলবিদ্যুৎকর্মী

সংগৃহীত ছবি

নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে টানা নয় দিন বেঁচে ছিলেন দুই জলবিদ্যুৎকর্মী। ছোট একটি ‘এয়ার পকেট’ বা বাতাসের ফাঁকা জায়গাই শেষ পর্যন্ত তাদের প্রাণ বাঁচিয়ে রাখে।

গত আগস্টের শেষ দিকে হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। প্রবল পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ভয়াবহ ওই দুর্যোগে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অনেকে নিখোঁজ হন।

এরই মধ্যে আপার ত্রিশূলি থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দুই কর্মী কবির মহারজন ও সঞ্জয় সাহ ভূগর্ভস্থ একটি সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন। প্রায় নয় দিন তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজন ও সহকর্মীরা তাদের বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন।

ঘটনার দিন সকালে কাজ শুরু করার পরপরই পাহাড় থেকে নেমে আসে বিপুল কাদা ও পানির স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ভূগর্ভস্থ স্টেশন কাদাপানিতে প্লাবিত হয়।

প্রাণ বাঁচাতে কবির ও সঞ্জয় সুড়ঙ্গের আরও ভেতরে অপেক্ষাকৃত ছোট ও ওপরের দিকে ঢালু একটি কেবল-ডাক্ট টানেলে আশ্রয় নেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুড়ঙ্গের নির্গমনপথ থেকে প্রায় ১৬০ মিটার দূরের ওই অংশে পানি পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সেখানে সামান্য বাতাসের ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়।

সেই ছোট ‘এয়ার পকেট’ই তাদের জীবন রক্ষার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। তবে একই সঙ্গে সেটিই পরিণত হয় তাদের বন্দিদশার স্থানে।

সুড়ঙ্গের ভেতর ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার, চারদিকে কাদাপানি। কোনো খাবার ছিল না। তৃষ্ণা মেটাতে বাধ্য হয়ে কবির ঘোলা কাদাপানি পান করতেন। আর মানসিকভাবে ভেঙে না পড়তে সঞ্জয় অন্ধকারের মধ্যেই হিন্দু মন্ত্র পাঠ করতেন। এভাবেই খাবার ছাড়াই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে নয়টি দিন কাটান তারা।

এদিকে বাইরে তাদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছিল নেপালের সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের দল। টানা বৃষ্টি, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত কঠিন।

শেষ পর্যন্ত বিশেষ ওয়াটার জেট ব্যবহার করে কাদা সরানো এবং সুড়ঙ্গে বাতাস পৌঁছানোর জন্য ড্রিল করার পর উদ্ধারকারীরা তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। সুড়ঙ্গের অন্ধকার ভেদ করে সামান্য আলো দেখা যায়। এরপর ভেতর থেকে একটি হাত বেরিয়ে এলে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, সেখানে এখনো মানুষ জীবিত আছেন।

নয় দিন পর উদ্ধার করে দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় খাবার না পাওয়া ও প্রতিকূল পরিবেশে থাকার কারণে তারা গুরুতরভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। কয়েক দিনের চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তারা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Default Advertisement

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com