ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩০ পিএম

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আটটি আরব ও ইসলামিক দেশ। পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-সংগঠনের বিরুদ্ধে আরও দেশকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। পরে ফ্রান্স ও কানাডাও একই ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া ডেনমার্ক ও পর্তুগালসহ আরও নয়টি দেশ ব্রিটিশ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানায়।
এদিকে গাজার প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েল সরকারের নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। স্লোভেনিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় গাজা ছেড়ে যেতে চাইলে এবং অন্য কোনো দেশ তাকে গ্রহণে প্রস্তুত থাকলে ইসরায়েল বাধা দেবে না। তবে কাউকে জোর করে গাজা ছাড়তেও বাধ্য করা হবে না।
তবে ইসরায়েলি সরকারের চরম ডানপন্থি মন্ত্রীদের বক্তব্য এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির গাজাবাসীদের ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে’ উৎসাহিত করার জন্য সাত বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও বলেন, ফিলিস্তিনিদের দেশত্যাগ ছাড়া গাজার কোনো বাস্তব সমাধান নেই।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। জেনেভা কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত