ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭:৪৫ এএম

দুই সপ্তাহ আগেও পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরে খুব বেশি মানুষ চিনতেন না রাজাউল্লাহকে। অথচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে অভিষেকেই মাত্র চার বলের মধ্যে জো রুটকে ফিরিয়ে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার।
রাজাউল্লাহর গল্পের চমক অবশ্য ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর পর নয়, বরং তার আগেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টেস্টের দলে ডাক পাওয়ার সময় তার কাছে কোনো পাসপোর্টই ছিল না।
নির্বাচকেরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। কারণ, জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার সময় রাজাউল্লাহ ছিলেন নিজের গ্রামের বাড়িতে, আর তার ফোনও ছিল বন্ধ।
সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় শেষ পর্যন্ত তাকে খুঁজে বের করতে গ্রামে একজন কোচকে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। জরুরি ভিত্তিতে তৈরি করা হয় পাসপোর্ট, সংগ্রহ করা হয় ইংল্যান্ডের ভিসা। এরপর দলের সঙ্গে যোগ দিতে বিমানে তুলে দেওয়া হয় তরুণ এই পেসারকে।
ইংল্যান্ডে পৌঁছে অবশ্য বিশ্রামের সুযোগ পাননি তিনি। দলের সদস্য হিসেবে শুধু সফরে থাকাই নয়, এজবাস্টনেই তাকে সরাসরি একাদশে নামিয়ে দেওয়া হয়।
আর মাঠে নেমেই নিজের সামর্থ্যের জানান দেন রাজাউল্লাহ। টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ বলেই ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ব্যাটার ও অধিনায়ক জো রুটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।
ডানহাতি এই পেসার নিজের প্রথম দুই ওভারে ঘণ্টায় ৯২ মাইল গতিতে বল করেন। তার কোনো বলই ৮৯ মাইলের নিচে নামেনি। পরে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা গতি ও নিয়ন্ত্রণ কমলেও দিনের শেষভাগে আবারও আঘাত হানেন তিনি।
হাফ-সেঞ্চুরি করে বেশ থিতু হয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের ওপেনার এমিলিও গেকেও বোল্ড করে ফেরান রাজাউল্লাহ। অভিষেকের প্রথম দিনেই তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। পাকিস্তানের ১৩৩ রানের জবাবে ২৩ রানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
দলের জন্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স না হলেও রাজাউল্লাহর আবির্ভাব পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বড় প্রাপ্তি। গতি, আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারদের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস—সবকিছুরই ঝলক দেখা গেছে তার বোলিংয়ে।
রাজাউল্লাহর বড় ক্রিকেটে পথচলা অবশ্য খুব বেশি পুরোনো নয়। গত নভেম্বরে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে পেশোয়ারের হয়ে অভিষেক হয় তার। এর আগে মারদান জেলা দলের হয়ে ক্রিকেটে হাতেখড়ি।
কোয়েটায় একটি অনানুষ্ঠানিক টুর্নামেন্ট চলাকালে পেশোয়ার অঞ্চলের কোচ আব্দুল রেহমান তার প্রতিভা প্রথম লক্ষ্য করেন। পরে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে রাজাউল্লাহর বোলিং দেখে মুগ্ধ হন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাই-পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ।
এরপর আগস্টের শেষদিকে পিসিবির ফাস্ট-বোলিং ক্যাম্পে ডাক পান তিনি। জাতীয় দলের কাঠামোর সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া ১২ জন পেসারের একজন ছিলেন রাজাউল্লাহ।
সবশেষে বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পান এই তরুণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তখনও অভিষেক না হওয়া পাঁচ ক্রিকেটারের একজন ছিলেন তিনি।
পাসপোর্টহীন অবস্থায় গ্রামের বাড়ি থেকে জাতীয় দলের খোঁজে শুরু হয়েছিল যে দৌড়, সেটির শেষ হয়েছে এজবাস্টনের মাঠে। আর মাত্র চার বলেই জো রুটের উইকেট তুলে নিয়ে রাজাউল্লাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন—এই দৌড় হয়তো পাকিস্তান ক্রিকেটকে নতুন এক গতির গল্পই শোনাতে যাচ্ছে।



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত