পারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ায় ১,৩৯৯ ভূমিকম্প, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫৭ এএম

পারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ায় ১,৩৯৯ ভূমিকম্প, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

সংগৃহীত ছবি

উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র মাউন্ট মানটাপের আশপাশে ভূমিকম্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭ সালে দেশটির সর্বশেষ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পরও কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় ছোট ছোট ভূমিকম্প অব্যাহত রয়েছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সময়ের সঙ্গে এসব ভূমিকম্পের সংখ্যা ও মাত্রা—দুটিই ধীরে ধীরে বাড়ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাউন্ট মানটাপ এলাকায় ছয়টি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এরপর ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে মোট ১ হাজার ৩৯৯টি ভূমিকম্প শনাক্ত করা হয়েছে। অথচ এর আগে প্রায় ২ হাজার বছর ধরে এলাকাটি প্রায় ভূমিকম্পমুক্ত ছিল।

গবেষকদের মতে, পারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট ভূমিকম্প সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তে থাকে না। তবে মাউন্ট মানটাপের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০১৭ সালের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষার পর সেখানে ভূমিকম্পের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

ওই বিস্ফোরণের পর প্রায় ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। এতে মাউন্ট মানটাপের ভূ-গঠনে প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত পরিবর্তন এবং একটি ভূগর্ভস্থ টানেল ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে যে ভূমিকম্পগুলো রেকর্ড হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই তুলনামূলক দুর্বল—সাধারণত ২ থেকে ৩ মাত্রার মধ্যে। এগুলো অগভীর গভীরতায় সংঘটিত হয়েছে।

পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কিম বলেন, ঐতিহাসিক রেকর্ডে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা খুবই বিরল ছিল। গত প্রায় ২ হাজার বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে সেখানে সামান্য ভূকম্পনেরই সন্ধান পাওয়া যায়।

গবেষকদের ধারণা, ২০১৭ সালের পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর ও গঠন আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যেতে পারেনি। এর ফলে অন্তত দুটি পুরোনো ভূ-ফাটল বা ফল্ট পুনরায় সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের চাপ পাহাড়ের ভেতরের পুরোনো ফাটলগুলো খুলে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ফাটলও তৈরি করতে পারে। এসব ফাটলে পানি প্রবেশের পর পানির চাপ শিলাস্তরের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলেই দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ছোট ছোট ভূমিকম্প সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com