ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৫৩ এএম

সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও লোহিত সাগর উপকূলের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি ট্যাংক থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এ সময় বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। হুতিদের হামলার পর প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কবার্তাও জারি করা হয়।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া দাবি করেন, রিয়াদের ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’ এবং লোহিত সাগরের উপকূলে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি আরামকোর ইয়ানবু স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্রের দাবি, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো ‘শত্রুতামূলক প্রচেষ্টা’ প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি বাহিনীর হামলার জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি অঞ্চলটিতে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের লড়াইয়ে উভয় পক্ষের ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হুতিদের ৩১ জন এবং সরকারি বাহিনীর ১৭ জন বলে দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৬ ছাড়িয়েছে।
সম্প্রতি হুতিরা কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে। লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দিয়েই সৌদি আরবের তেল ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়।
সূত্র: বিবিসি



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত