নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ৯:০২ পিএম

নারীর আর্থিক সুরক্ষা, কৃষকের ক্ষমতায়ন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলার খড়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা তথ্য অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। GPMS কর্মপরিকল্পনার আওতায় অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬-এর দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর আয়োজন করা হয়।
জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেওয়ান সাজিদুল হক, খড়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও মোঃ শাহ আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও তাপসী রাবেয়া সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪টি উপজেলা ও এলাকায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী সদস্যদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদনগরে ইতোমধ্যে ৭৭৬ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য খানা জরিপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কৃষকদের সহায়তায় সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন ইউএনও। তিনি বলেন, কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় এনে বীজ, সার, কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও অন্যান্য কৃষি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৮৫১ জন কৃষক-কৃষাণীকে কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউএনও বলেন, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাবেশে স্থানীয় নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শেষে জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাসের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত