ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের আশপাশেও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
বুধবার ওয়াশিংটনের কাছে আয়োজিত এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, সমুদ্রের তলদেশ থেকে ‘সিসলুনার স্পেস’ পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় যুদ্ধ করা, টিকে থাকা এবং প্রয়োজনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনীর থাকতে হবে। পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী মহাকাশ অঞ্চলকে ‘সিসলুনার স্পেস’ বলা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ২০১৯ সালে গঠিত মার্কিন মহাকাশ বাহিনীও চাঁদের আশপাশে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাহিনীর কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন বলেন, মানবজাতি মহাকাশের আরও গভীরে প্রবেশ করছে। তাই সেখানে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত থাকা মহাকাশ বাহিনীর দায়িত্ব।
এর কয়েক দিন আগে একই সম্মেলনে মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো কক্ষপথে ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ মোতায়েন করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পর মহাকাশের সামরিকীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্যাগননের দাবি, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে তিনি চীনকে অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, চীন মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে সমর্থন করে এবং এর অস্ত্রায়ন ও সামরিকীকরণের বিরোধিতা করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান।
১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি অনুযায়ী, চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তুগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন গ্যাগনন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত