ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩০ এএম

ফাইল ছবি
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যেই আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ডানপন্থী রাজনৈতিক জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটেন। একই সঙ্গে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফ্রান্স ও কানাডাও এ ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে—এমন অবস্থান থেকেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টে সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটেন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করে আসছে। তাঁর মতে, শুধু বক্তব্যে নয়, প্রয়োজন হলে নীতিগত অবস্থান বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেও প্রকাশ করতে হবে।
ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইসরায়েলও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশটি ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিকের ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর ব্রিটিশ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকের সমালোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, দুই দেশের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ব্যস্ত নেতানিয়াহু। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলের বিভিন্ন ডানপন্থী দলকে একই রাজনৈতিক শিবিরে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে বিভাজন থাকায় নির্বাচনের আগে তাদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির জন্য নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় জোটের সমীকরণ ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ও সম্ভাব্য জোট-সমীকরণ পরিবর্তনশীল। ফলে নির্বাচনের পর কোন পক্ষ সরকার গঠন করবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ব্রিটেন-ইসরায়েল এই বিরোধ তাই শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয় হয়ে থাকছে না। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নীতি, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন—এই তিনটি ইস্যু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা পশ্চিম তীরের বসতি নীতি নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্য করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত