ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৫ এএম

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারে। সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে তেলের দাম। এর প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে সংকটে পড়েছেন বিভিন্ন দেশের মানুষ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে রাস্তায় নেমেছেন পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া ও গুয়াতেমালার মানুষ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সংঘাতের শুরুতে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। পরে কিছুটা কমলেও সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল-মানদেব প্রণালি চলে যাওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
পর্তুগালে সড়কে গাড়িচালকদের প্রতিবাদ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে পর্তুগালে বিক্ষোভ করেন গাড়িচালকেরা। ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।
এতে রাজধানী লিসবনের ‘২৫ দে এপ্রিল’ সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
সিরিয়ায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর ঘোষণা
জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সিরিয়া সরকার। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষুব্ধ মানুষ।
গত রোববার ও সোমবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এবং সড়কে টায়ারে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেউ কেউ আত্মদাহের হুমকিও দেন।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছে সিরিয়া সরকার।
ইন্দোনেশিয়ায় পাম্পে দীর্ঘ সারি, বিক্ষোভ ট্যাক্সিচালকদের
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। রাজধানী জাকার্তায় জ্বালানি না পেয়ে অনেককে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পেট্রলপাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি।
সংকট মোকাবিলায় গাড়ির নম্বরপ্লেট জোড় না বিজোড়—তার ভিত্তিতে জ্বালানি দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে সরকার। এর প্রতিবাদে গত সোমবার বিক্ষোভ করেন ট্যাক্সিচালকেরা।
জাভার জোগাকার্তায়ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
ফিলিপাইনে বিপাকে জেলেরা
ফিলিপাইনে জ্বালানির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ম্যানিলা উপসাগরের জেলেরা। ডিজেল ও গ্যাসচালিত নৌকা ব্যবহার করে মাছ ধরেন তারা। কিন্তু জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মৎস্যজীবীদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ফার্নান্দো হিকাপ বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের ‘দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় সরবরাহ কমাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো
শ্রীলঙ্কায় প্রতি মাসে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে সরকার। তবে দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় পেট্রলপাম্পে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সীমিত করতে শুরু করেছে।
দেশটির পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠনের চেয়ারম্যান কুমারা রাজাপক্ষ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি বিক্রি করে তারা লোকসান গুনছেন।
গুয়াতেমালায় রাস্তায় পরিবহনশ্রমিক ও কৃষকরা
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে গুয়াতেমালার কৃষিখাতেও। কৃষিকাজে ট্রাক্টর চালাতে ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হয় কৃষকদের।
সম্প্রতি রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেন পরিবহনশ্রমিক ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা। কয়েক দিন পর রাজধানীর দক্ষিণে ভিয়া নুয়েভা এলাকায় ধারণ করা ভিডিওতে কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে তৈরি হওয়া চাপ এখন বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনেও প্রভাব ফেলছে।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস



© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত