ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬:০৭ এএম

সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। রাতভর ও দিনভর চালানো রুশ হামলায় কিয়েভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ‘নৈতিক অধঃপতনের নতুন অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে থামাতে পশ্চিমা দেশ ও মিত্রদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ (ডিএসএনএস) জানিয়েছে, রাতভর হামলায় কিয়েভের বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সলোমিয়ানোস্কি জেলার একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। পোদিলস্কি জেলায় কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায়। হামলার সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আতঙ্কিত মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে অবস্থান নেন।
টেলিভিশন চ্যানেল ‘উই আর ইউক্রেন’-এ দিনের বেলার হামলা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া এবার সরাসরি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। রাশিয়াকে থামাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ বিমান হামলায় এক নারী কর্মী নিহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিদল মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় দুই দেশ তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার কিয়েভজুড়ে আবারও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করে। এরপর রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর কিয়েভে বর্তমানে যে হারে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছে, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সারাতোভ শহরের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর রোমান বুসারগিন।
এদিকে ট্রাম্পের দুই শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরেও যুদ্ধ বন্ধে বড় কোনো চুক্তি হয়নি। তবে উইটকফ আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
২০২২ সালের পর প্রথমবার ইউক্রেন সফর শেষে জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ পুরো শীতকালজুড়েই চলতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ভূখণ্ডগত দাবি ও যুদ্ধের মূল শর্তগুলো থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি। পুতিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইউরি উশাকোভ জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র কথা জানানো হয়েছে। রাশিয়া তার নির্ধারিত সব লক্ষ্য অর্জন করবে বলেও প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত