নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪:০৩ পিএম

ফাইল ছবি
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান।
দুদক সচিব জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ এ ঘটনায় মামলা করা হয়। সাবেক আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও অসাধু উপায়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল।
দুদকের তদন্তে আনিসুল হকের নামে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আনিসুল হক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও বলা হয়, আনিসুল হক স্বনামে ও বেনামে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, বোনের ছেলে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কথিত কাজিন মোহাম্মদ ইকবালের সহায়তায় এসব সম্পদ অর্জন ও পরিচালনা করেন।
দুদকের দাবি, এই তিন ব্যক্তি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে আনিসুল হককে মোট ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকার সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। এ কারণে তাদেরও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের ২৯টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে।
এসব অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




© 2026 Times of Asia 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত